সরকারি দপ্তর মানেই কি ফাইলের দীর্ঘ জটলা আর অন্তহীন অপেক্ষা? সেই চেনা ধারণাকে আমূল বদলে দিতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই প্রশাসনিক ইউনিট পা রাখলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর আধুনিক দুনিয়ায়।
আজ সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সরকারি কার্যক্রমে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। যেখানে মূল লক্ষ্যই ছিল— আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে নাগরিক সেবার মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এবার লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর সেই লক্ষ্য পূরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে বড় হাতিয়ার আর কিছু হতে পারে না। কর্মশালায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয় কীভাবে প্রাত্যহিক দাপ্তরিক কাজ, ডেটা সংরক্ষণ, এবং নাগরিক আবেদনগুলো এআই টুলের মাধ্যমে চোখের পলকে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
প্রশিক্ষণ সেশনে আইটি বিশেষজ্ঞরা দেখান যে, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের দক্ষতা যেমন কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, ঠিক তেমনি সাধারণ মানুষও কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই দ্রুত তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবা বুঝে পাবেন। এটি মূলত সময়সাশ্রয়ী এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
উচ্চপর্যায়ের এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে আমাদের সনাতনী মানসিকতা থেকে বের হয়ে প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে।
প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন :
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুলী বিশ্বাস
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শোভন সরকার
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা কবির
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. ফয়জুল বারী
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ এবং আইটি সেলের কর্মকর্তারা এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সরকারি সেবার আধুনিকায়নে নিজেদের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মশালা শেষে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁদের কাজের ধরনকে পুরোপুরি বদলে দেবে। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই প্রযুক্তিনির্ভর দূরদর্শী উদ্যোগ আগামী দিনে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর জন্যও একটি অনন্য এবং স্মার্ট মডেল হিসেবে পথ দেখাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
সরকারি দপ্তর মানেই কি ফাইলের দীর্ঘ জটলা আর অন্তহীন অপেক্ষা? সেই চেনা ধারণাকে আমূল বদলে দিতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে দেশের অন্যতম প্রাচীন এই প্রশাসনিক ইউনিট পা রাখলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর আধুনিক দুনিয়ায়।
আজ সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সরকারি কার্যক্রমে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা। যেখানে মূল লক্ষ্যই ছিল— আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে নাগরিক সেবার মানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।
ডিজিটাল বাংলাদেশের পর এবার লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর সেই লক্ষ্য পূরণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে বড় হাতিয়ার আর কিছু হতে পারে না। কর্মশালায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয় কীভাবে প্রাত্যহিক দাপ্তরিক কাজ, ডেটা সংরক্ষণ, এবং নাগরিক আবেদনগুলো এআই টুলের মাধ্যমে চোখের পলকে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
প্রশিক্ষণ সেশনে আইটি বিশেষজ্ঞরা দেখান যে, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের দক্ষতা যেমন কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, ঠিক তেমনি সাধারণ মানুষও কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই দ্রুত তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সেবা বুঝে পাবেন। এটি মূলত সময়সাশ্রয়ী এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
উচ্চপর্যায়ের এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান। তিনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে আমাদের সনাতনী মানসিকতা থেকে বের হয়ে প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে।
প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন :
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুলী বিশ্বাস
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শোভন সরকার
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা কবির
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. ফয়জুল বারী
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ এবং আইটি সেলের কর্মকর্তারা এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সরকারি সেবার আধুনিকায়নে নিজেদের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মশালা শেষে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁদের কাজের ধরনকে পুরোপুরি বদলে দেবে। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই প্রযুক্তিনির্ভর দূরদর্শী উদ্যোগ আগামী দিনে দেশের অন্যান্য জেলাগুলোর জন্যও একটি অনন্য এবং স্মার্ট মডেল হিসেবে পথ দেখাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন