স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের চোখজুড়ে মহাবিশ্বকে জানার অদম্য কৌতূহল। তাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল হাজারো প্রশ্ন— কীভাবে সৃষ্টি হলো এই বিশাল মহাবিশ্ব? ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর আসলে কী? কেমন হয় মহাকাশচারীদের জীবন? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই জটিল সব রহস্যঘেরা দুনিয়া যেন এক নিমেষেই উন্মোচিত হলো গোপালগঞ্জের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর সামনে। প্রথাবদ্ধ ক্লাসরুমের চার দেয়াল আর মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছিল বিজ্ঞানের জয়গানে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে গোপালগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এক ব্যতিক্রমী বিজ্ঞান সংলাপ, যার শিরোনাম ছিল— মহাবিশ্বের অনন্ত যাত্রা। শহরের যুগশিখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়ে বিজ্ঞানমনস্ক এক অনন্য সকাল উপভোগ করে।
সাধারণত সরকারি কোনো সেমিনার বা অনুষ্ঠান মানেই যেখানে থাকে গম্ভীর পরিবেশ, সেখানে এই আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা দুই ঘণ্টার এই দীর্ঘ সেশনে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান নিজেই মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীদের সাথে এক প্রাণবন্ত আড্ডায়।
তিনি অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় কিশোরী শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব, মহাকাশ অনুসন্ধানের রোমাঞ্চকর ইতিহাস এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অগ্রগতি। আলোচনার পর শুরু হয় উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, যা রূপ নেয় এক জমজমাট বিজ্ঞান আড্ডায়। শিক্ষার্থীরা একের পর এক তাদের মনে জমে থাকা বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক প্রশ্ন করতে থাকে এবং জেলা প্রশাসকও হাসিমুখে তাদের কৌতূহল মেটান।
শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, বর্তমান বিশ্ব সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। আগামী দিনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞানকে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই প্রয়াশ। বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও নিয়মিত জ্ঞানচর্চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও সক্ষম করে তুলবে।
এই বিজ্ঞান উৎসবে জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন:
শোভন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)।
রেজওয়ানা কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
রিহাব ইনাম, সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিশ)।
হরি শংকর বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক, যুগশিখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
সংলাপ শেষে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মণ্ডল তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব নিয়ে এত বিস্তারিত ও সহজ আলোচনা আগে কখনো শোনার সুযোগ হয়নি। এখান থেকে নতুন অনেক বিষয় জানতে পেরেছি, যা আমাদের বিজ্ঞানচর্চায় দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।
শ্রেণিকক্ষের চেনা পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিজ্ঞানকে এত সহজ, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে জানতে পেরে উদীপ্ত শিক্ষার্থীরা এই ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন নিয়মিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
স্কুলপড়ুয়া ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের চোখজুড়ে মহাবিশ্বকে জানার অদম্য কৌতূহল। তাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল হাজারো প্রশ্ন— কীভাবে সৃষ্টি হলো এই বিশাল মহাবিশ্ব? ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর আসলে কী? কেমন হয় মহাকাশচারীদের জীবন? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই জটিল সব রহস্যঘেরা দুনিয়া যেন এক নিমেষেই উন্মোচিত হলো গোপালগঞ্জের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর সামনে। প্রথাবদ্ধ ক্লাসরুমের চার দেয়াল আর মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে শিক্ষার্থীরা মেতে উঠেছিল বিজ্ঞানের জয়গানে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে গোপালগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এক ব্যতিক্রমী বিজ্ঞান সংলাপ, যার শিরোনাম ছিল— মহাবিশ্বের অনন্ত যাত্রা। শহরের যুগশিখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়ে বিজ্ঞানমনস্ক এক অনন্য সকাল উপভোগ করে।
সাধারণত সরকারি কোনো সেমিনার বা অনুষ্ঠান মানেই যেখানে থাকে গম্ভীর পরিবেশ, সেখানে এই আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা দুই ঘণ্টার এই দীর্ঘ সেশনে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান নিজেই মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীদের সাথে এক প্রাণবন্ত আড্ডায়।
তিনি অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় কিশোরী শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব, মহাকাশ অনুসন্ধানের রোমাঞ্চকর ইতিহাস এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অগ্রগতি। আলোচনার পর শুরু হয় উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, যা রূপ নেয় এক জমজমাট বিজ্ঞান আড্ডায়। শিক্ষার্থীরা একের পর এক তাদের মনে জমে থাকা বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক প্রশ্ন করতে থাকে এবং জেলা প্রশাসকও হাসিমুখে তাদের কৌতূহল মেটান।
শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, বর্তমান বিশ্ব সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। আগামী দিনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞানকে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে আধুনিক বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই প্রয়াশ। বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও নিয়মিত জ্ঞানচর্চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও সক্ষম করে তুলবে।
এই বিজ্ঞান উৎসবে জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে উপস্থিত ছিলেন:
শোভন সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)।
রেজওয়ানা কবির, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
রিহাব ইনাম, সহকারী কমিশনার (শিক্ষানবিশ)।
হরি শংকর বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক, যুগশিখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
সংলাপ শেষে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যাশা মণ্ডল তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, বিজ্ঞান ও মহাবিশ্ব নিয়ে এত বিস্তারিত ও সহজ আলোচনা আগে কখনো শোনার সুযোগ হয়নি। এখান থেকে নতুন অনেক বিষয় জানতে পেরেছি, যা আমাদের বিজ্ঞানচর্চায় দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।
শ্রেণিকক্ষের চেনা পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিজ্ঞানকে এত সহজ, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে জানতে পেরে উদীপ্ত শিক্ষার্থীরা এই ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক আয়োজন নিয়মিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন