ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত ঔষধ ও প্রসাধনী পণ্যের বিপণন নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) জেলা সদরের দুটি জনবহুল এলাকায় এই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ঔষধ ও কসমেটিকস আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিনব্যাপী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপাড়া এবং বেদগ্রাম এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। মূলত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে নকল, ভেজাল কিংবা অনুমোদনহীন কসমেটিকস ও জীবনরক্ষাকারী ঔষধের অবৈধ বাজারজাতকরণ রোধ করার লক্ষ্যেই এই ঝটিকা পরিদর্শন করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে মোহাম্মদপাড়া ও বেদগ্রামের বিভিন্ন ঔষধের দোকান (ফার্মেসি) এবং প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কসমেটিকস ও ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা অমান্য করার সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ফলশ্রুতিতে, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক আইন লঙ্ঘনকারী ৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। একই সাথে অনিয়মের মাত্রা বিবেচনা করে ওই চার প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা বা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। সাজা প্রদানের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে আরোপিত জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে স্পট থেকেই আদায় করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মোহাম্মদপাড়া ও বেদগ্রাম এলাকায় এই ব্যতিক্রমী ও জনগুরুত্বপূর্ণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. ফয়জুল বারী। অভিযান চলাকালীন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবসায়ী ও ফার্মেসির মালিকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন কিংবা নকল পণ্য ও ঔষধ কাউন্টারে রাখা যাবে না।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের এই ধরনের বাজার তদারকি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের শারীরিক বা আর্থিক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে— বাজারে এমন যেকোনো ধরণের অনিয়ম, কালোবাজারি কিংবা ভেজাল পণ্যের মজুদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এই ধরণের অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিষয় : গোপালগঞ্জ জরিমানা মোবাইল কোর্ট

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত ঔষধ ও প্রসাধনী পণ্যের বিপণন নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) জেলা সদরের দুটি জনবহুল এলাকায় এই মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ঔষধ ও কসমেটিকস আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিনব্যাপী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপাড়া এবং বেদগ্রাম এলাকায় এই তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। মূলত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাজারে নকল, ভেজাল কিংবা অনুমোদনহীন কসমেটিকস ও জীবনরক্ষাকারী ঔষধের অবৈধ বাজারজাতকরণ রোধ করার লক্ষ্যেই এই ঝটিকা পরিদর্শন করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে মোহাম্মদপাড়া ও বেদগ্রামের বিভিন্ন ঔষধের দোকান (ফার্মেসি) এবং প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কসমেটিকস ও ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা অমান্য করার সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ফলশ্রুতিতে, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক আইন লঙ্ঘনকারী ৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। একই সাথে অনিয়মের মাত্রা বিবেচনা করে ওই চার প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ১৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা বা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। সাজা প্রদানের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে আরোপিত জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে স্পট থেকেই আদায় করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মোহাম্মদপাড়া ও বেদগ্রাম এলাকায় এই ব্যতিক্রমী ও জনগুরুত্বপূর্ণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. ফয়জুল বারী। অভিযান চলাকালীন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবসায়ী ও ফার্মেসির মালিকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুমোদনহীন কিংবা নকল পণ্য ও ঔষধ কাউন্টারে রাখা যাবে না।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের সুস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের এই ধরনের বাজার তদারকি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের শারীরিক বা আর্থিক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে— বাজারে এমন যেকোনো ধরণের অনিয়ম, কালোবাজারি কিংবা ভেজাল পণ্যের মজুদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এই ধরণের অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন