নতুন সরকার গঠনের পর নিজের প্রথম কোনো বৈদেশিক সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন তিনি। সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একান্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আজ রোববার (২১ জুন) দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো বিদেশ সফর।
এই ঐতিহাসিক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে থাকছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত আছেন :
পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ড. খলিলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা: মাহ্দী আমিন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত কুয়ালালামপুর। সফরকে ঘিরে পুরো কুয়ালালামপুর শহর সেজেছে বর্ণাঢ্য সাজে। শহরের পথে পথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং মালয়েশিয়ার পতাকা পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে। গতকাল শনিবার বৈকালিক একপশলা বৃষ্টির পর মালয়েশিয়ার মনোরম আবহাওয়া ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
মালয়েশিয়া সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুরের বিলাসবহুল শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন। সেখানে মালয়েশিয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা, ব্যবসায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় হতে পারে। এছাড়াও মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত (বৈধ) করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা সহযোগিতা ও মালয়েশীয় বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে টেবিলে উঠবে।
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়োগকর্তার প্রতারণা কিংবা কর্মসংস্থান সংকটের কারণে অনিয়মিত (অবৈধ) হয়ে পড়েছেন। কুয়ালালামপুরে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিক নাসির উদ্দিন ও জাকারিয়া জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সফরে কলিং ভিসা চালুর পাশাপাশি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিতের কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই সফর থেকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা ও স্কলারশিপ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীমহল আশা করছে, সফরের মাধ্যমে হালাল শিল্প, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যৌথ বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে।
মালয়েশিয়া বিএনপির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। সফরসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা সমীকরণ হিসাব-নিকাশ করেই প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা দুই দেশের সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
নতুন সরকার গঠনের পর নিজের প্রথম কোনো বৈদেশিক সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন তিনি। সফরকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একান্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আজ রোববার (২১ জুন) দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো বিদেশ সফর।
এই ঐতিহাসিক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে থাকছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত আছেন :
পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ড. খলিলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা: মাহ্দী আমিন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত কুয়ালালামপুর। সফরকে ঘিরে পুরো কুয়ালালামপুর শহর সেজেছে বর্ণাঢ্য সাজে। শহরের পথে পথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং মালয়েশিয়ার পতাকা পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে। গতকাল শনিবার বৈকালিক একপশলা বৃষ্টির পর মালয়েশিয়ার মনোরম আবহাওয়া ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
মালয়েশিয়া সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুরের বিলাসবহুল শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন। সেখানে মালয়েশিয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা, ব্যবসায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় হতে পারে। এছাড়াও মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত (বৈধ) করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা সহযোগিতা ও মালয়েশীয় বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে টেবিলে উঠবে।
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়োগকর্তার প্রতারণা কিংবা কর্মসংস্থান সংকটের কারণে অনিয়মিত (অবৈধ) হয়ে পড়েছেন। কুয়ালালামপুরে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিক নাসির উদ্দিন ও জাকারিয়া জানান, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সফরে কলিং ভিসা চালুর পাশাপাশি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিতের কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই সফর থেকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা ও স্কলারশিপ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীমহল আশা করছে, সফরের মাধ্যমে হালাল শিল্প, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যৌথ বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে।
মালয়েশিয়া বিএনপির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ। সফরসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা সমীকরণ হিসাব-নিকাশ করেই প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যা দুই দেশের সম্পর্ককে এক অভূতপূর্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন