মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

বাজারে পাটের চড়া দাম, চাটমোহরে চাষিদের মুখে তৃপ্তির হাসি

চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ: ফলন ও দামে হাসি পাটচাষিদের মুখে

চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ: ফলন ও দামে হাসি পাটচাষিদের মুখে
পাট জাগ দিচ্ছেন চলনবিলের কৃষক। ছবি : সংগৃহীত

প্রণোদনার অভাব, বাজারজাতকরণের জটিলতা আর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় একসময় পাট চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন দেশের কৃষকেরা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছিল একসময়ের ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ। তবে সেই চিত্র বদলে দিয়ে চলতি মৌসুমে পাটের কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি বাজারে মিলছে ভালো দাম। ন্যায্য মূল্য পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার পাটচাষিরা।

চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহরজুড়ে এখন চলছ পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর তুমুল ব্যস্ততা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের আশানুরূপ ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্য থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে। বিঘা প্রতি ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষ, উন্নত বীজ উৎপাদন এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শে সুফল পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

তবে ভালো দামের আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে কিছু স্থানীয় ভোগান্তিও। চাটমোহরের ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাথিয়া কয়ড়াপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজল প্রামানিক জানান, এবার ১২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে ভালো দাম পেলেও শ্রমিক সংকটের কারণে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মজুরি গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে চরম সমস্যা হচ্ছে।

একই চিত্র হান্ডিয়াল ইউনিয়নের কৃষক রওশন আলীর। ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করা এই কৃষক জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। দাম ভালো থাকলে সব কষ্ট দূর হবে। অন্যদিকে মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন ভালো ফলনে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভরা মৌসুমে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের বিষয়ে ক্ষোভ জানান। কৃষকেরা যাতে সরাসরি তাদের উৎপাদিত পাটের সঠিক মূল্য পান, সে বিষয়ে সরকারের নজরদারি জোরদারের দাবি জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদের কারণে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে আমন ধান রোপণ ও পাট কাটা একই সময়ে শুরু হওয়ায় সাময়িক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য পেলে চাষিরা লাভবান হবেন।


চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) কুন্তলা ঘোষ জানান, পাট ও পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন কৃষকদের মাঝে পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আমরা কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করেছি। সরকারি এই সহায়তার ফলেই এবার পাটের বাম্পার আবাদ সম্ভব হয়েছে।

বিষয় : পাবনা চলনবিল রাজশাহী বিভাগ চাটমোহর দাম

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


চাটমোহরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ: ফলন ও দামে হাসি পাটচাষিদের মুখে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রণোদনার অভাব, বাজারজাতকরণের জটিলতা আর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় একসময় পাট চাষে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন দেশের কৃষকেরা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছিল একসময়ের ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশ। তবে সেই চিত্র বদলে দিয়ে চলতি মৌসুমে পাটের কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি বাজারে মিলছে ভালো দাম। ন্যায্য মূল্য পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার পাটচাষিরা।

চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহরজুড়ে এখন চলছ পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর তুমুল ব্যস্ততা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের আশানুরূপ ফলন ও বাজারে উচ্চমূল্য থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে। বিঘা প্রতি ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাট চাষ, উন্নত বীজ উৎপাদন এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শে সুফল পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

তবে ভালো দামের আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে কিছু স্থানীয় ভোগান্তিও। চাটমোহরের ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাথিয়া কয়ড়াপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজল প্রামানিক জানান, এবার ১২ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে ভালো দাম পেলেও শ্রমিক সংকটের কারণে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মজুরি গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে চরম সমস্যা হচ্ছে।

একই চিত্র হান্ডিয়াল ইউনিয়নের কৃষক রওশন আলীর। ৬ বিঘা জমিতে পাট চাষ করা এই কৃষক জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। দাম ভালো থাকলে সব কষ্ট দূর হবে। অন্যদিকে মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন ভালো ফলনে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভরা মৌসুমে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের বিষয়ে ক্ষোভ জানান। কৃষকেরা যাতে সরাসরি তাদের উৎপাদিত পাটের সঠিক মূল্য পান, সে বিষয়ে সরকারের নজরদারি জোরদারের দাবি জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদের কারণে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে আমন ধান রোপণ ও পাট কাটা একই সময়ে শুরু হওয়ায় সাময়িক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য পেলে চাষিরা লাভবান হবেন।


চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) কুন্তলা ঘোষ জানান, পাট ও পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন কৃষকদের মাঝে পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় আমরা কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করেছি। সরকারি এই সহায়তার ফলেই এবার পাটের বাম্পার আবাদ সম্ভব হয়েছে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো