১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল। উত্তাল মার্চের পর যখন গোটা বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই যশোরের মাটিতে নেমে আসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অন্ধকার। ৫৪ বছর আগের এই দিনে যশোর শহরের গুরুদাসবাবু লেন, রেলস্টেশন মাদ্রাসা ও ক্যাথলিক গির্জাসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। রাজনীতিবীদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে সেদিন প্রাণ দিতে হয়েছিল। অথচ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই শহীদদের বড় একটি অংশ এখনো পায়নি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
সেদিন শহরের গুরুদাসবাবু লেনে চালানো তান্ডবে বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী এবং তাঁর তিন ছেলে—সৈয়দ নুরুল ইসলাম বকুল, সৈয়দ শফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর ও আজিজুল হককে ধরে নিয়ে যায় পাক সেনারা। পরবর্তীতে যশোর ক্যান্টনমেন্টে অমানুষিক নির্যাতনের পর তাঁদের হত্যা করা হয়।
অনুরূপভাবে শহরের ক্যাথলিক গির্জায় হামলা চালিয়ে ইতালীয় ফাদার মারলো ভারনেসিসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়।
যশোরের ইতিহাসে ৪ এপ্রিলের সবচেয়ে বড় ক্ষত হয়ে আছে মাদ্রাসা ট্র্যাজেডি। রেলস্টেশন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফজরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় বিহারিদের সহযোগিতায় হামলা চালায় হানাদার বাহিনী। সেখানে ২৩ জনকে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শেখ আব্দুর রহিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রক্তে ভেসে যাওয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সেদিন ২৩টি মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও ৭ জন আজও অজ্ঞাত রয়ে গেছেন। আত্মরক্ষার জন্য খোঁড়া একটি গর্তেই সেদিন তাঁদের গণকবর দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালে শহীদদের কয়েকজনকে (অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী, শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান ও শিক্ষক আব্দুর রউফ) শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাকি শহীদরা এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাইরে। শহীদদের স্মরণে আজও নির্মিত হয়নি কোনো কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্মারক।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, আমাদের দাবি দীর্ঘদিনের। শহীদদের কবর সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।
যশোর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকালে শংকরপুর বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এছাড়া বিকেলে শহরের টাউন হল ময়দানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল। উত্তাল মার্চের পর যখন গোটা বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই যশোরের মাটিতে নেমে আসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অন্ধকার। ৫৪ বছর আগের এই দিনে যশোর শহরের গুরুদাসবাবু লেন, রেলস্টেশন মাদ্রাসা ও ক্যাথলিক গির্জাসহ বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। রাজনীতিবীদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক মানুষকে সেদিন প্রাণ দিতে হয়েছিল। অথচ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই শহীদদের বড় একটি অংশ এখনো পায়নি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
সেদিন শহরের গুরুদাসবাবু লেনে চালানো তান্ডবে বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী এবং তাঁর তিন ছেলে—সৈয়দ নুরুল ইসলাম বকুল, সৈয়দ শফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর ও আজিজুল হককে ধরে নিয়ে যায় পাক সেনারা। পরবর্তীতে যশোর ক্যান্টনমেন্টে অমানুষিক নির্যাতনের পর তাঁদের হত্যা করা হয়।
অনুরূপভাবে শহরের ক্যাথলিক গির্জায় হামলা চালিয়ে ইতালীয় ফাদার মারলো ভারনেসিসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়।
যশোরের ইতিহাসে ৪ এপ্রিলের সবচেয়ে বড় ক্ষত হয়ে আছে মাদ্রাসা ট্র্যাজেডি। রেলস্টেশন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ফজরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় বিহারিদের সহযোগিতায় হামলা চালায় হানাদার বাহিনী। সেখানে ২৩ জনকে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শেখ আব্দুর রহিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রক্তে ভেসে যাওয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সেদিন ২৩টি মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হলেও ৭ জন আজও অজ্ঞাত রয়ে গেছেন। আত্মরক্ষার জন্য খোঁড়া একটি গর্তেই সেদিন তাঁদের গণকবর দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালে শহীদদের কয়েকজনকে (অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমীর আলী, শিক্ষক মাওলানা হাবিবুর রহমান ও শিক্ষক আব্দুর রউফ) শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাকি শহীদরা এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাইরে। শহীদদের স্মরণে আজও নির্মিত হয়নি কোনো কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্মারক।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, আমাদের দাবি দীর্ঘদিনের। শহীদদের কবর সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি।
যশোর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আজ জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকালে শংকরপুর বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এছাড়া বিকেলে শহরের টাউন হল ময়দানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন