মেহেরপুরের গাংনী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সংযোগস্থলে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি আধুনিক গার্ডার সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না দুই জেলার মানুষের।
এলজিইডি গাংনী উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেহেরপুরের বামন্দী থেকে কুষ্টিয়ার প্রাগপুর জিসি পর্যন্ত সড়কের মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কহিনূর অ্যান্ড কফিল এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু এক বছর আগে কাজ শেষ হলেও গাংনী অংশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতপুর অংশে সংযোগ সড়ক থাকলেও গাংনী অংশে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কোনো রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বা অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম ও শমশের আলী জানান, সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই, ভ্যান বা সাইকেল ঠেলে তুলতে ৫-৬ জন মানুষ লাগে। বর্ষাকালে কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব্রিজ বানানো হলেও আমাদের কষ্ট কমেনি।
জমির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম জানান, তারা জমি দিতে ইচ্ছুক এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জমির ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করলেই দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব।
মেহেরপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রশীদ বলেন, সেতুর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। মূলত জমি অধিগ্রহণের ব্যয় ও অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি আলাদা হওয়ায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
দ্রুত এই জটিলতা কাটিয়ে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন দুই উপজেলার কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মানুষ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
মেহেরপুরের গাংনী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সংযোগস্থলে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি আধুনিক গার্ডার সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার চার বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না দুই জেলার মানুষের।
এলজিইডি গাংনী উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মেহেরপুরের বামন্দী থেকে কুষ্টিয়ার প্রাগপুর জিসি পর্যন্ত সড়কের মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কহিনূর অ্যান্ড কফিল এন্টারপ্রাইজ’। কিন্তু এক বছর আগে কাজ শেষ হলেও গাংনী অংশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতপুর অংশে সংযোগ সড়ক থাকলেও গাংনী অংশে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় কোনো রাস্তা তৈরি হয়নি। ফলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে বা অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম ও শমশের আলী জানান, সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই, ভ্যান বা সাইকেল ঠেলে তুলতে ৫-৬ জন মানুষ লাগে। বর্ষাকালে কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ব্রিজ বানানো হলেও আমাদের কষ্ট কমেনি।
জমির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম জানান, তারা জমি দিতে ইচ্ছুক এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জমির ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করলেই দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব।
মেহেরপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনজুর রশীদ বলেন, সেতুর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। মূলত জমি অধিগ্রহণের ব্যয় ও অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি আলাদা হওয়ায় কিছুটা দেরি হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।
দ্রুত এই জটিলতা কাটিয়ে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন দুই উপজেলার কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন