মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। সোমবার (১১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিল নিয়ে জোটের নেতাকর্মীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরে তাঁরা সেখানেই সড়কের ওপর বসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীরা মা মাটি মোহনা, বিদেশীদের দিব না, মা মাটি মোহনা, মার্কিনিদের হবে না, দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো, কমরেড কমরেড, গড়ে তোলো ব্যারিকেড সহ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যিনি মার্কিনপন্থী উপদেষ্টা ছিলেন এবং যিনি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন, সেই রজার খলিল কীভাবে এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব বর্তমান সরকার আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় এসেছে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির ধারাবাহিকতাই কি তারা বজায় রাখছে?
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালি চলবে না। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা শহীদ হয়েছিলেন। তাঁদের রক্তের শপথ নিয়ে বলছি, প্রয়োজনে আবার জীবন দেব, তবুও এই চুক্তি বাস্তবায়ন হতে দেব না।
মার্কিন চুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি অভিযোগ করেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি ও শিল্পখাত সরাসরি ধ্বংসের মুখে পড়বে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করেই এই চুক্তি করা হয়েছে এবং বর্তমান সংসদে এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করেছে। জনগণের কোনো মতামত না নিয়েই এটি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি—কেউই এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মার্কিন স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তারা সবাই এক।
সালমান সিদ্দিকী বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মার্কিন শর্তের অধীনস্থ করা হয়েছে। এটি কোনো সমান মর্যাদার চুক্তি নয়, এটি স্পষ্টত এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।
তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চুক্তির সমস্ত বিষয়বস্তু জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশ শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে মার্কিন চুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। সোমবার (১১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিল নিয়ে জোটের নেতাকর্মীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরে তাঁরা সেখানেই সড়কের ওপর বসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীরা মা মাটি মোহনা, বিদেশীদের দিব না, মা মাটি মোহনা, মার্কিনিদের হবে না, দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো, কমরেড কমরেড, গড়ে তোলো ব্যারিকেড সহ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যিনি মার্কিনপন্থী উপদেষ্টা ছিলেন এবং যিনি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী মার্কিন চুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন, সেই রজার খলিল কীভাবে এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন? তাহলে কি আমরা ধরে নেব বর্তমান সরকার আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় এসেছে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেশবিরোধী চুক্তির ধারাবাহিকতাই কি তারা বজায় রাখছে?
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দালালি চলবে না। ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা শহীদ হয়েছিলেন। তাঁদের রক্তের শপথ নিয়ে বলছি, প্রয়োজনে আবার জীবন দেব, তবুও এই চুক্তি বাস্তবায়ন হতে দেব না।
মার্কিন চুক্তির ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি অভিযোগ করেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি ও শিল্পখাত সরাসরি ধ্বংসের মুখে পড়বে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করেই এই চুক্তি করা হয়েছে এবং বর্তমান সংসদে এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না।
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করেছে। জনগণের কোনো মতামত না নিয়েই এটি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি—কেউই এই চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও মার্কিন স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তারা সবাই এক।
সালমান সিদ্দিকী বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মার্কিন শর্তের অধীনস্থ করা হয়েছে। এটি কোনো সমান মর্যাদার চুক্তি নয়, এটি স্পষ্টত এক ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।
তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চুক্তির সমস্ত বিষয়বস্তু জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে এবং তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশ শেষে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে মার্কিন চুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন