মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

গোপালগঞ্জ

ভুল বোঝাবুঝি থেকে গুঞ্জন: মুকসুদপুরে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে আসল ঘটনা কী?

ভুল বোঝাবুঝি থেকে গুঞ্জন: মুকসুদপুরে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে আসল ঘটনা কী?
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিলপাড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি স্থানীয় ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— জেলার কোথাও গরুর মাংস বিক্রির ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা নেই। মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত ও মাংস ব্যবসায়ীর অভিযোগ :

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ জলিলপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিলেন আলমগীর কসাই নামে এক ব্যবসায়ী। তার দাবি, স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লির সুবিধার্থেই তিনি সেখানে এই ব্যবসা করছিলেন।

​সম্প্রতি আলমগীর কসাই জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ মে (শুক্রবার) দুপুরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরোঙ্গ দেব তাকে সেখানে মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

ছবি: অভিযোগ পত্র

এ ব্যাপারে আরোঙ্গ দেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হুমকি বা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে আলমগীর কসাইকে কোনো প্রকার হুমকি দেওয়া হয়নি।

​আরোঙ্গ দেব আরও বলেন—

​কোথাও গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ নয়— এই বিষয়টি তাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য যেন বজায় থাকে, সেজন্য শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোকানের ঠিক সামনে গরু জবাই বা মাংস বিক্রি না করে কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় করার জন্য একটি মৌখিক অনুরোধ করা হয়েছিল।

​বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে গোপালগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গোপালগঞ্জের কোথাও গরুর মাংস বিক্রিতে কোনো বাধা নেই। বাজারে কোন পণ্য বিক্রি হবে বা হবে না, সেই সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার কেবল জেলা প্রশাসন ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। পুলিশ প্রশাসনের মূল কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলার তদারকি করা এবং সকল  সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা।


​এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, একটি ছোট ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে অযথা গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। জলিলপাড় এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা সকলকে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ভুল বোঝাবুঝি থেকে গুঞ্জন: মুকসুদপুরে গরুর মাংস বিক্রি নিয়ে আসল ঘটনা কী?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিলপাড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি স্থানীয় ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— জেলার কোথাও গরুর মাংস বিক্রির ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা নেই। মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

​ঘটনার সূত্রপাত ও মাংস ব্যবসায়ীর অভিযোগ :

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ জলিলপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিলেন আলমগীর কসাই নামে এক ব্যবসায়ী। তার দাবি, স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লির সুবিধার্থেই তিনি সেখানে এই ব্যবসা করছিলেন।

​সম্প্রতি আলমগীর কসাই জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ মে (শুক্রবার) দুপুরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরোঙ্গ দেব তাকে সেখানে মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। এই অভিযোগের পরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

ছবি: অভিযোগ পত্র

এ ব্যাপারে আরোঙ্গ দেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হুমকি বা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে আলমগীর কসাইকে কোনো প্রকার হুমকি দেওয়া হয়নি।

​আরোঙ্গ দেব আরও বলেন—

​কোথাও গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ নয়— এই বিষয়টি তাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য যেন বজায় থাকে, সেজন্য শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোকানের ঠিক সামনে গরু জবাই বা মাংস বিক্রি না করে কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় করার জন্য একটি মৌখিক অনুরোধ করা হয়েছিল।

​বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে গোপালগঞ্জের জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গোপালগঞ্জের কোথাও গরুর মাংস বিক্রিতে কোনো বাধা নেই। বাজারে কোন পণ্য বিক্রি হবে বা হবে না, সেই সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার কেবল জেলা প্রশাসন ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের। পুলিশ প্রশাসনের মূল কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলার তদারকি করা এবং সকল  সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা।


​এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, একটি ছোট ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে অযথা গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। জলিলপাড় এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা সকলকে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো