মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ!

২০ বিঘায় ড্রাগন চাষে ঠাকুরগাঁওয়ের আজিজুরের বাজিমাত, লক্ষ্য ৩০ লাখ টাকার ফল বিক্রি!

২০ বিঘায় ড্রাগন চাষে ঠাকুরগাঁওয়ের আজিজুরের বাজিমাত, লক্ষ্য ৩০ লাখ টাকার ফল বিক্রি!
ছবি : সংগৃহীত

উত্তরবঙ্গের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্যমী কৃষক আজিজুর রহমান। সম্পূর্ণ আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজের ২০ বিঘা জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন ড্রাগন ফলের বাগান। তাঁর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং চোখধাঁধানো সাফল্য এখন পুরো বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মানুষের নজর কেড়েছে। চলতি মরসুমে এই বাগান থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন এই সফল চাষি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক আজিজুর রহমান জানান, শুরুতে নিজের বাড়ির চারপাশের মাত্র ৪ বিঘা জমিতে তিনি এই ফলের চাষ শুরু করেছিলেন। সেখানে প্রাথমিক সফলতা পাওয়ার পর তিনি বড়বাড়ি ইউনিয়নের হাসপাতাল সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী তীরনই নদীর পাশে আরও ১৬ বিঘা জমি ইজারা (লিজ) নেন। বর্তমানে তাঁর মোট ২০ বিঘা জমিতে শোভা পাচ্ছে ড্রাগন ফলের গাছ।

বাগানটি গড়তে আজিজুরকে বেশ মোটা অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়েছে। একনজরে তাঁর বাগানের খরচের হিসাব:

  • মোট চারার সংখ্যা: প্রায় ৫২ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

  • চারার মূল্য: প্রতিটি চারা সংগ্রহে খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

  • বিঘা প্রতি গড় খরচ: জমি প্রস্তুতকরণ, সার, শেষ ব্যবস্থা, বালাইনাশক ও রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা।

  • কংক্রিটের খুঁটি স্থাপন: ড্রাগন গাছের ভার বহনের জন্য কংক্রিটের খুঁটি ও টায়ার স্থাপনেই তাঁর বড় অঙ্কের ব্যয় হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।

আজিজুর রহমানের এই বিশাল ড্রাগন বাগানটির সার্বিক তদারকি ও দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর আপন ভাই মোখলেসুর রহমান। এই চাষের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে মোখলেসুর বলেন, কয়েক বছর আগে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রথম ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের বিষয়টি জানতে পারি। বাড়ি ফিরে ভাইয়ের সঙ্গে আইডিয়াটা শেয়ার করি এবং দুজনে মিলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ শুরু করি। এখন বাগানের ফলন দেখে মনে হচ্ছে, আমরা সেদিন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম।

উদ্যোক্তা আজিজুর রহমান তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানান, এর আগেও তিনি এই বাগান থেকে প্রথম দফায় ৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। তবে এবার ফলন অনেক বেশি। তিনি আরও যোগ করেন, যদি সরকারি সহায়তায় বাগানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাইটিং (কৃত্রিম আলো) এর ব্যবস্থা করতে পারি, তবে এই বাগান থেকে বারো মাসই ড্রাগন ফল পাওয়া সম্ভব। আর প্রাকৃতিকভাবে এমনিতে বছরে ৭ মাস ফলন পাওয়া যায়।

আজিজুরের এই ড্রাগন বাগান কেবল তাঁর নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, তৈরি করেছে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও। বর্তমানে এই বাগানে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কাজ করছেন ১৯ জন শ্রমিক। বাগানের শ্রমিক দুলাল ও শ্রীমতি জানান, তারা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করেন এবং প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে মজুরি পান। ঘরের কাছে এমন নিয়মিত আয়ের উৎস পেয়ে খুশি তারা।


বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, আজিজুর রহমানই এই উপজেলায় প্রথম এত বড় পরিসরে ড্রাগন চাষ করছেন। আমাদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাঁকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর এই অবিশ্বাস্য সফলতা দেখে এলাকার অন্য অনেক চাষিও এখন ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং পরামর্শ নিতে প্রতিদিন অনেকেই এই বাগান পরিদর্শনে আসছেন।

বিষয় : চাষি ঠাকুরগাঁও

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


২০ বিঘায় ড্রাগন চাষে ঠাকুরগাঁওয়ের আজিজুরের বাজিমাত, লক্ষ্য ৩০ লাখ টাকার ফল বিক্রি!

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

উত্তরবঙ্গের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উদ্যমী কৃষক আজিজুর রহমান। সম্পূর্ণ আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজের ২০ বিঘা জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন ড্রাগন ফলের বাগান। তাঁর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং চোখধাঁধানো সাফল্য এখন পুরো বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মানুষের নজর কেড়েছে। চলতি মরসুমে এই বাগান থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন এই সফল চাষি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক আজিজুর রহমান জানান, শুরুতে নিজের বাড়ির চারপাশের মাত্র ৪ বিঘা জমিতে তিনি এই ফলের চাষ শুরু করেছিলেন। সেখানে প্রাথমিক সফলতা পাওয়ার পর তিনি বড়বাড়ি ইউনিয়নের হাসপাতাল সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী তীরনই নদীর পাশে আরও ১৬ বিঘা জমি ইজারা (লিজ) নেন। বর্তমানে তাঁর মোট ২০ বিঘা জমিতে শোভা পাচ্ছে ড্রাগন ফলের গাছ।

বাগানটি গড়তে আজিজুরকে বেশ মোটা অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়েছে। একনজরে তাঁর বাগানের খরচের হিসাব:

  • মোট চারার সংখ্যা: প্রায় ৫২ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

  • চারার মূল্য: প্রতিটি চারা সংগ্রহে খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

  • বিঘা প্রতি গড় খরচ: জমি প্রস্তুতকরণ, সার, শেষ ব্যবস্থা, বালাইনাশক ও রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা।

  • কংক্রিটের খুঁটি স্থাপন: ড্রাগন গাছের ভার বহনের জন্য কংক্রিটের খুঁটি ও টায়ার স্থাপনেই তাঁর বড় অঙ্কের ব্যয় হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা।

আজিজুর রহমানের এই বিশাল ড্রাগন বাগানটির সার্বিক তদারকি ও দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর আপন ভাই মোখলেসুর রহমান। এই চাষের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে মোখলেসুর বলেন, কয়েক বছর আগে এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রথম ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের বিষয়টি জানতে পারি। বাড়ি ফিরে ভাইয়ের সঙ্গে আইডিয়াটা শেয়ার করি এবং দুজনে মিলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ শুরু করি। এখন বাগানের ফলন দেখে মনে হচ্ছে, আমরা সেদিন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম।

উদ্যোক্তা আজিজুর রহমান তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানান, এর আগেও তিনি এই বাগান থেকে প্রথম দফায় ৪ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। তবে এবার ফলন অনেক বেশি। তিনি আরও যোগ করেন, যদি সরকারি সহায়তায় বাগানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাইটিং (কৃত্রিম আলো) এর ব্যবস্থা করতে পারি, তবে এই বাগান থেকে বারো মাসই ড্রাগন ফল পাওয়া সম্ভব। আর প্রাকৃতিকভাবে এমনিতে বছরে ৭ মাস ফলন পাওয়া যায়।

আজিজুরের এই ড্রাগন বাগান কেবল তাঁর নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, তৈরি করেছে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও। বর্তমানে এই বাগানে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কাজ করছেন ১৯ জন শ্রমিক। বাগানের শ্রমিক দুলাল ও শ্রীমতি জানান, তারা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করেন এবং প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে মজুরি পান। ঘরের কাছে এমন নিয়মিত আয়ের উৎস পেয়ে খুশি তারা।


বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, আজিজুর রহমানই এই উপজেলায় প্রথম এত বড় পরিসরে ড্রাগন চাষ করছেন। আমাদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাঁকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর এই অবিশ্বাস্য সফলতা দেখে এলাকার অন্য অনেক চাষিও এখন ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং পরামর্শ নিতে প্রতিদিন অনেকেই এই বাগান পরিদর্শনে আসছেন।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো