মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় ডিজেল সংকট

মাঠে ধানের থোড়, পাম্পে হাহাকার: জ্বালানি সংকটে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

মাঠে ধানের থোড়, পাম্পে হাহাকার: জ্বালানি সংকটে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন
ডিজেল শেষ হওয়ায় শ্যালো মেশিন কাঁধে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন দুই কৃষক। ছবি : সংগৃহীত

বোরো ধানের ভরা মৌসুমে তপ্ত রোদে যখন মাঠ ফেটে চৌচির, তখন এক ফোঁটা জলের জন্য পাম্পে পাম্পে হাহাকার করছেন দেশের কৃষক। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার প্রভাবে দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট, যার সরাসরি আঘাত পড়েছে ডিজেলনির্ভর কৃষি খাতে। রংপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজশাহীসহ দেশের প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলোতে সেচ কাজ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

রংপুর বিভাগে অতিরিক্ত খরচের বোঝা

রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় এবার ৫ লাখ ৯৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। ৯৬ হাজারের বেশি ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপের জন্য প্রয়োজনীয় তেল না মেলায় বিপাকে পড়েছেন ইদ্রিস আলীর মতো হাজারো কৃষক। হাড়িয়ারকুঠির এই কৃষক জানান, ২০০ টাকার ডিজেল সংগ্রহ করতে তাঁর যাতায়াত খরচই হচ্ছে ১২০ টাকা। কৃষি বিভাগের মতে, এই সংকটে সেচ বাবদ কৃষকের অতিরিক্ত খরচ হতে পারে প্রায় ২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

পাম্পে দীর্ঘ সারি, মিলছে না চাহিদামতো তেল

গঙ্গাচড়ার শিহাব ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে অমানবিক চিত্র। জেনুইন কৃষক নিশ্চিত করতে পাম্প কর্তৃপক্ষ ক্যানে তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে বাইসাইকেলের পেছনে ভারী সেচপাম্প বেঁধে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পাম্পে আসছেন। কোলকোন্দ ইউনিয়নের কৃষক শাহিন আক্ষেপ করে বলেন, ৬ একর ভুট্টার জন্য সপ্তাহে ৭ লিটার তেল লাগে, অথচ ৪ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পাম্প নিয়ে আসার পর দিচ্ছে মাত্র ৩ লিটার।

কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে পাটের আবাদও হুমকিতে

কুষ্টিয়ার কৃষক আশরাফুল আলমের ১৩ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘায় ধান। প্রতিদিন ১৯ লিটার তেলের বিপরীতে তিনি পাচ্ছেন মাত্র ৬ লিটার। অন্যদিকে ফরিদপুরের নগরকান্দার আমিরুল মোল্যা জানান, পাম্পে তেল না পেয়ে খোলা বাজার থেকে ১৫০ টাকা লিটার দরে তেল কিনতে হচ্ছে, যা সাধারণ কৃষকের সাধ্যের বাইরে। সময়মতো পানি দিতে না পারলে পাটগাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বিপাকে রাজশাহী ও গোপালগঞ্জের চরাঞ্চল

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত ডিজেল। গোপালগঞ্জের কৃষক রহমত মিয়া বলেন, এখন ধানে থোড় আসার সময়। এই সময় সেচ দিতে না পারলে ধান পুষ্ট হবে না, সব চিটা হয়ে যাবে।

সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন জেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে স্লিপ প্রথা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কৃষকদের দাবি—আশ্বাস নয়, মাঠ বাঁচাতে দ্রুত পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় ভরা মৌসুমে ফসল হারিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে দেশ।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন রংপুর, পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, গাইবান্ধা, রাজশাহী, গোপালগঞ্জের নিজস্ব প্রতিনিধিরা।

বিষয় : জ্বালানি সংকট দৈনিক নতুন আলো কুষ্টিয়া বোরো চাষ রংপুর ফরিদপুর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মাঠে ধানের থোড়, পাম্পে হাহাকার: জ্বালানি সংকটে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বোরো ধানের ভরা মৌসুমে তপ্ত রোদে যখন মাঠ ফেটে চৌচির, তখন এক ফোঁটা জলের জন্য পাম্পে পাম্পে হাহাকার করছেন দেশের কৃষক। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীলতার প্রভাবে দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট, যার সরাসরি আঘাত পড়েছে ডিজেলনির্ভর কৃষি খাতে। রংপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজশাহীসহ দেশের প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলোতে সেচ কাজ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

রংপুর বিভাগে অতিরিক্ত খরচের বোঝা

রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় এবার ৫ লাখ ৯৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। ৯৬ হাজারের বেশি ডিজেলচালিত অগভীর নলকূপের জন্য প্রয়োজনীয় তেল না মেলায় বিপাকে পড়েছেন ইদ্রিস আলীর মতো হাজারো কৃষক। হাড়িয়ারকুঠির এই কৃষক জানান, ২০০ টাকার ডিজেল সংগ্রহ করতে তাঁর যাতায়াত খরচই হচ্ছে ১২০ টাকা। কৃষি বিভাগের মতে, এই সংকটে সেচ বাবদ কৃষকের অতিরিক্ত খরচ হতে পারে প্রায় ২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

পাম্পে দীর্ঘ সারি, মিলছে না চাহিদামতো তেল

গঙ্গাচড়ার শিহাব ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে অমানবিক চিত্র। জেনুইন কৃষক নিশ্চিত করতে পাম্প কর্তৃপক্ষ ক্যানে তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ফলে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে বাইসাইকেলের পেছনে ভারী সেচপাম্প বেঁধে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পাম্পে আসছেন। কোলকোন্দ ইউনিয়নের কৃষক শাহিন আক্ষেপ করে বলেন, ৬ একর ভুট্টার জন্য সপ্তাহে ৭ লিটার তেল লাগে, অথচ ৪ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে পাম্প নিয়ে আসার পর দিচ্ছে মাত্র ৩ লিটার।

কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে পাটের আবাদও হুমকিতে

কুষ্টিয়ার কৃষক আশরাফুল আলমের ১৩ বিঘা জমির মধ্যে ৮ বিঘায় ধান। প্রতিদিন ১৯ লিটার তেলের বিপরীতে তিনি পাচ্ছেন মাত্র ৬ লিটার। অন্যদিকে ফরিদপুরের নগরকান্দার আমিরুল মোল্যা জানান, পাম্পে তেল না পেয়ে খোলা বাজার থেকে ১৫০ টাকা লিটার দরে তেল কিনতে হচ্ছে, যা সাধারণ কৃষকের সাধ্যের বাইরে। সময়মতো পানি দিতে না পারলে পাটগাছ মরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বিপাকে রাজশাহী ও গোপালগঞ্জের চরাঞ্চল

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত ডিজেল। গোপালগঞ্জের কৃষক রহমত মিয়া বলেন, এখন ধানে থোড় আসার সময়। এই সময় সেচ দিতে না পারলে ধান পুষ্ট হবে না, সব চিটা হয়ে যাবে।


সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন জেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে স্লিপ প্রথা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কৃষকদের দাবি—আশ্বাস নয়, মাঠ বাঁচাতে দ্রুত পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় ভরা মৌসুমে ফসল হারিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে দেশ।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন রংপুর, পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, গাইবান্ধা, রাজশাহী, গোপালগঞ্জের নিজস্ব প্রতিনিধিরা।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো