কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম মজমপুর এলকায় তীব্র জ্বালানি তেল (পেট্রোল ও অক্টেন) সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সকাল থেকে চাকুরীজীবীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের পেশাগত কর্মক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজে।
সরেজমিনে মজমপুর এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই শত শত মোটরসাইকেল চালক তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। লাইনের শেষ প্রান্ত রাস্তার অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করায় এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এই ভোগান্তির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবীরা। অফিস শুরুর আগে তেল নিতে এসে তারা দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ছেন। এতে সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না অনেকেই, যা তাদের কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
মজমপুর এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত শাহীন আলম বলেন, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ১০টার মধ্যে অফিসে পৌঁছানোর কথা, কিন্তু এখনও পাম্পের কাছাকাছিই যেতে পারিনি। তেলের জন্য এভাবে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় কাজের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অফিসে গিয়েও ক্লান্তি লাগে, পুরো মনঃসংযোগ দিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্কুল শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোটরসাইকেলই আমাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। তেল না পেলে সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো কঠিন। তেলের সংকটের কারণে শুধু আমাদের ভোগান্তিই হচ্ছে না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই জ্বালানি সংকটের কারণে চাকুরীজীবীদের উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের শারীরিক ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করছে, যা সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মজমপুর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেলের সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা যতটুকু পাচ্ছি, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্টন করার চেষ্টা করছি। সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
জ্বালানি সংকটের স্থায়ী ও দ্রুত সমাধান এবং চাকুরীজীবীদের কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন কুষ্টিয়াবাসি।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম মজমপুর এলকায় তীব্র জ্বালানি তেল (পেট্রোল ও অক্টেন) সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সকাল থেকে চাকুরীজীবীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের পেশাগত কর্মক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজে।
সরেজমিনে মজমপুর এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই শত শত মোটরসাইকেল চালক তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। লাইনের শেষ প্রান্ত রাস্তার অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করায় এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় তেল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এই ভোগান্তির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবীরা। অফিস শুরুর আগে তেল নিতে এসে তারা দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ছেন। এতে সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারছেন না অনেকেই, যা তাদের কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
মজমপুর এলাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত শাহীন আলম বলেন, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ১০টার মধ্যে অফিসে পৌঁছানোর কথা, কিন্তু এখনও পাম্পের কাছাকাছিই যেতে পারিনি। তেলের জন্য এভাবে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় কাজের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। অফিসে গিয়েও ক্লান্তি লাগে, পুরো মনঃসংযোগ দিয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্কুল শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোটরসাইকেলই আমাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। তেল না পেলে সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো কঠিন। তেলের সংকটের কারণে শুধু আমাদের ভোগান্তিই হচ্ছে না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনারও ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই জ্বালানি সংকটের কারণে চাকুরীজীবীদের উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের শারীরিক ও মানসিক চাপের সৃষ্টি করছে, যা সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মজমপুর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেলের সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা যতটুকু পাচ্ছি, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্টন করার চেষ্টা করছি। সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
জ্বালানি সংকটের স্থায়ী ও দ্রুত সমাধান এবং চাকুরীজীবীদের কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন কুষ্টিয়াবাসি।

আপনার মতামত লিখুন