গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় কৃষিতে আধুনিকতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে করে চলতি বোরো মৌসুমে শ্রমিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে স্বস্তির হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের মুখে।
সোমবার (৪ মে) উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নে কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে এই ধান কর্তন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান শুভ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল কাদের, এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম. এন. নাঈম। এছাড়াও সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস আহম্মেদ ও বহুগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে কৃষকদের উৎসাহিত করেন।
ধান কাটা উৎসবের উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের ফলে একই সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটের সমাধান হিসেবেও কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে এসব যন্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।
বহুগ্রাম এলাকার স্থানীয় কৃষকরা এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দিত। তারা জানান, আগে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার, আবার মজুরিও থাকতো আকাশচুম্বী। কিন্তু এখন কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলের অপচয় কমছে, তেমনি রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে ধান মাড়াই করার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।
মুকসুদপুরের এই আধুনিক কৃষি কার্যক্রমকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। সাধারণ কৃষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যদি সরকারি সহায়তায় আরও বেশি পরিমাণে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো যায়, তবে কৃষি খাত একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হবে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় কৃষিতে আধুনিকতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সময় ও শ্রম সাশ্রয়ী আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে করে চলতি বোরো মৌসুমে শ্রমিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে স্বস্তির হাসি ফুটেছে স্থানীয় কৃষকদের মুখে।
সোমবার (৪ মে) উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নে কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে এই ধান কর্তন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান শুভ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল কাদের, এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এম. এন. নাঈম। এছাড়াও সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস আহম্মেদ ও বহুগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে কৃষকদের উৎসাহিত করেন।
ধান কাটা উৎসবের উদ্বোধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের ফলে একই সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটের সমাধান হিসেবেও কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে এসব যন্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।
বহুগ্রাম এলাকার স্থানীয় কৃষকরা এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দিত। তারা জানান, আগে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার, আবার মজুরিও থাকতো আকাশচুম্বী। কিন্তু এখন কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলের অপচয় কমছে, তেমনি রোদে পুড়ে বা বৃষ্টিতে ভিজে ধান মাড়াই করার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।
মুকসুদপুরের এই আধুনিক কৃষি কার্যক্রমকে স্থানীয়রা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। সাধারণ কৃষকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যদি সরকারি সহায়তায় আরও বেশি পরিমাণে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো যায়, তবে কৃষি খাত একটি লাভজনক শিল্পে পরিণত হবে।

আপনার মতামত লিখুন